বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি॥ বরিশালের বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়ায় মাদকাসক্ত স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনাকে হত্যা দাবি করে অর্থ বানিজ্য ও এজাহারে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিরহদের নামে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে মামলার তদন্ত অফিসার মানবেন্দ্র বালোর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে তদন্তে ধীরগতি আনার চেষ্টা করছে বাদী পক্ষ বলে অভিযোগে উঠে এসেছে। জানাযায়, ২০২০ সালের ১৭ই আগষ্ট সন্ধ্যার পর রাকুদিয়া গ্রামের হানিফ মোল্লার স্কুল পড়ুয়া ছেলে হৃদয় ওরফে ইব্রাহীম নিজ ঘরের পিছনের দরজার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্ম-হত্যা করে। ওই দিন রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ। ঘটনার ২২দিন পরে ০৮ সেপ্টেম্বর২০২০ইং তারিখে বাবুগঞ্জ থানায় নিহত হৃদয়ের দাদী পিয়ারা বেগম বাদি হয়ে ৪ জনকে নামধরা আসামী করে একটি হত্যা মামলার এজাহার দাখিল করেন। বাবুগঞ্জ থানায় মামলা নং-০২। এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনার ফরেনসিক রিপোর্ট বের হলে সেখানে আত্মহত্যা বিষয়টি ক্লিায়ার হয় বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ। সুরাতহালের রিপোর্টে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিতের কথা উল্ল্যেখ করেছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডাঃ রেফায়েতুল হায়দার। মিথ্যা মামলায় হয়রারি শিকার জুলফিকার আলী,রাব্বি মোল্লা ও ফিরোজ আলম মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার ২২দিন পরে স্থানীয় একটি দালাল চক্রের পরামর্শে নিহত স্কুল ছাত্রের দাদী আমাদের হয়রানির জন্য একটি মামলা দায়ের করেন এবং পরে তারা টাকা দাবি করে মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলে। আমরা টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নেয়ার অফার গ্রহন না করায় তারা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে মামলার তদন্ত অফিসার , বাবুগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত মানবেন্দ্র বালোকে জড়িয়ে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করে তদন্তে ধীরগতি আনার চেষ্টা করতে থাকে। ফরেনসিক রিপোর্টে আত্মহত্যা আসায় আমরা সস্তিতে রয়েছি। এজাহার ও পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, আত্মহত্যার ঘটনাটি ১৭ই আগষ্ট ঘটলেও বাদীর দায়ের কৃত মামলার এজাহারে ১৮আগষ্ট দেখানো হয়েছে। এছাড়া এজাহারে ঘরের আড়ার সাথে লাশ ঝুলতে দেখতে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও মূলত ঘরের পিছনের দরজার আড়ার সাথে লাশটি ঝুলতে দেখে উদ্ধার করে শেবাচিমে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বাবুগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত মানবেন্দ্র বালো বলেন, মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি মহল চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী মামলার তদন্ত শেষ করেছি। আশা করি সত্যের জয় হবে।
Leave a Reply